মঙ্গলবার, ০৭ Jul ২০২৬, ০১:০১ পূর্বাহ্ন
হালিশহরে ফুটপাতে চাঁদাবাজির অভিযোগে ‘ভাইরাল মঞ্জু’ আটক
স্টাফ রিপোর্টার ৫ জুলাই ২০২৬ ইং
চট্টগ্রাম নগরীর হালিশহর এলাকায় ফুটপাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া মঞ্জু নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ।
শনিবার রাতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।
হালিশহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওর ভিত্তিতে অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিললে তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশ জানায়, সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ফুটপাতে ব্যবসা করা কয়েকজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর কাছ থেকে এক ব্যক্তি টাকা সংগ্রহ করছেন। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়রা ওই ব্যক্তিকে মঞ্জু হিসেবে শনাক্ত করেন এবং তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে ফুটপাতের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায়ের অভিযোগ তোলেন।
ভিডিওটি পুলিশের নজরে আসার পর তা যাচাই-বাছাই এবং স্থানীয়ভাবে তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে অভিযুক্তকে শনাক্ত করা হয়। পরে শনিবার রাতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আটক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি ভাইরাল ভিডিওটির সত্যতা, অর্থ সংগ্রহের উদ্দেশ্য এবং এটি নিয়মিত চাঁদাবাজির অংশ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে এ ঘটনায় অন্য কোনো ব্যক্তি বা সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত রয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
স্থানীয় কয়েকজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ফুটপাতে ব্যবসা করতে গেলে প্রায়ই কিছু ব্যক্তি বিভিন্ন অজুহাতে অর্থ দাবি করেন। অনেক ক্ষেত্রে ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ দেওয়ার কথা বলে কিংবা উচ্ছেদের ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করা হয়। তবে প্রতিশোধের আশঙ্কায় অধিকাংশ ব্যবসায়ী প্রকাশ্যে অভিযোগ করতে চান না।
স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে ফুটপাতকেন্দ্রিক চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত অন্যদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে এ ঘটনার সঙ্গে অন্য কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এ বিষয়ে চূড়ান্ত মন্তব্য করতে রাজি হয়নি পুলিশ